আষাঢ় মাসের ম্যালেরিয়া

খুব জ্বর, একটু আকটু কাঁপুনি দেয়। রাত নামলেই পালা করে কাঁপুনি দিয়ে জ্বরেরা আসে, তেত্রিশ হাজার বছর আগে এরকম এক আষাঢ় মাসে হলো ম্যালেরিয়া।

জ্বরে প্রচন্ড ঘোরের মাঝে, লাল ঘোলা চোখ খোলা-বন্ধ দুই অবস্থায়ই যখন আম্মুর চেহারা ছাড়া কিছুই দেখে না, তখন মুহূর্তকাল যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা শরীরের ম্যালেরিয়ার এন্টিবডিকে খুব বকে! তুই সৃষ্টি না হইলেই তো আবার এই আনকন্ডিসনাল ভালবাসাটা পাওয়া যাইত!

নিজে মেরেকুটে ফেললেও তার ছেলেমমেয়েদের একটু কিছু হইলে তার মুখটা দেখার মত ছিল! লিওনার্দো সেদিন চা খেতে খেতে বলল, ও নাকি কোন মেয়ের মুখে এমন ভাজ দেখেই না, শুধু নাকি মায়েদের মধ্যেই নাকি দেখা যায়! 😕

শুধু জ্বরের সময়ই কোনরূপ রূঢ় ভাব আম্মুর মাঝে থাকত না। জন্ডিসের সময় আবিস্কার করলাম চোখ খুললেই দেখি আম্মু পাশে আছে, একটু পর পর নামায পড়ে, দোয়া পড়ে ফুঁ দেয়! এত এটেনসন নিজেকে ছাড়া মানুষ কিভাবে আরেকজনকে দেয়?

ঠিক কালই অল্মোস্ট সব ফিউল শেষ করে বিশালতর একটা হাইপারডাইভ দিয়ে আসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৭ সাল, আবারো সেই আষাঢ় মাস, কিন্তু এখনো আজ খুব জ্বরে চোখ বন্ধ করলে ওই একই দৃশ্যই দেখি, কারেন্ট নাই, চোখ খুলে দেখি আম্মু নাই পাশে! এক বান্ডেল অভিমান করার আগেই দেখি উনি একহাতে মোম আরেকহাতে পানির গ্লাস নিয়ে রুমে ঢুকছেন। দেখেই খুব গভীর ঘুম পেয়ে গেল, চোখটা আর খোলাই রাখা যাচ্ছে না....

জুলাই ২০১৭



0
0
0.000
1 comments